.png)
সমাজে সম্পদের বণ্টন সবসময় সমান হয় না। কিছু শ্রেণীর মানুষের হাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকায় তাদের ব্যয়ের ধারা প্রায়শই অপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, তুলনামূলক নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী তাদের প্রাথমিক দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের লড়াইতে সীমাবদ্ধ থাকে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী—উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত—আয়, ব্যয়, জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, শিক্ষার মান, পেশার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিন্নতা অনুযায়ী পৃথক জীবনধারার অভ্যস্ততা তৈরি করেছে। এসব ভিন্নতা সমাজে স্বাভাবিকভাবে ভাঙন ও বিভাজনের সৃষ্টি করে, যা মানবজীবনের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
উদাহরণস্বরূপ, মাসিক এক লাখ টাকা উপার্জনকারী একজন ব্যক্তি দৈনিক ২ হাজার টাকা ব্যয় করে পাঞ্জাবি কিনতে পারে। তার চাহিদা পূরণের জন্য ২০০০ টাকার দোকানও গড়ে ওঠে। ঠিক অনুরূপভাবে, মাসিক ১০ হাজার টাকা উপার্জনকারী ব্যক্তি ২০০ টাকা মূল্যের পাঞ্জাবি কিনতে সক্ষম, এবং সে অনুযায়ী সেই ধরনের দোকানও সমাজে বিদ্যমান। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি সমাজ উপাদান ও নাগরিকের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অভ্যস্ততা ও চাহিদার ব্যবস্থা তৈরি হয়।
তবে, জাতির সার্বিক উন্নতি অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরেও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। আদর্শ নাগরিকের দায়িত্ব ও প্রতিটি মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলাফলের প্রভাব রাষ্ট্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমান সুযোগ, সুবিন্যস্ত সম্পদের বণ্টন এবং সমাজের সকল স্তরের নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও নাগরিকদের দায়িত্ব সচেতনতার সমন্বয়ই জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র ও সমাজ একত্রে কাজ করলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
লেখক: তৌকির আজাদ সুমিত
প্রকাশক ও স্বত্বাধিকারী, দ্য ভয়েস২৪