
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মতে, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে জাতিকে বারবার শোক আর বেদনাবিধুর স্মৃতির মুখোমুখি হতে হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং গুরুতর আহতদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোকগাঁথা চলতে থাকবে। আর শোকসামেবশ বা শেকগাঁথা নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল, যা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধা পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই আন্দোলনে যোদ্ধা পরিবারের কিছুটা কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করা হবে। কারণ তারাও এক ধরনের মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বিভাগ খোলা হবে, যাতে এইসব মানুষদের দেখভাল করা যায়।’
জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান জানান, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ একটি চোখ, কেউবা দুই চোখই হারিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শহিদ ও আহতদের অসীম সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেসময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ২০২৪ এর আন্দোলন কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। অধিকার হারা মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী প্রিয় মানুষকে সজাগ থাকা জরুরি।’
আহতদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে দুটি পথে সহায়তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক- রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই- মানুষের রাজনৈতিক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তার অর্থনীতি নিশ্চিত করা। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে তা পূরণ করবে বিএনপি।’
সভায় আবারও তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা মানে শুধু অতীতের শোককে টেনে আনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনিশ্চয়তা তৈরি করা। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, গণতন্ত্রকামী মানুষের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা রচিত হবে।