
গত দেড় দশকে দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এই অর্থের বড় অংশই গেছে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক ডাকাতির মাধ্যমে, পাশাপাশি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে হিসাবনিকাশে কারসাজির ফল হিসেবে।
শনিবার (১৭জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক এআই এবং টেকসই রিপোর্টিংয়ের রূপান্তর’ শীর্ষক এই সম্মেলনে তিনি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও যৌথ বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দায়িত্বশীল প্রতিবেশী এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের পক্ষে। আমরা আলোচনা, আস্থা বৃদ্ধি ও অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে সহযোগিতামূলক সমাধানকে সমর্থন করি।”
তিনি আরও বলেন, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয় দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে পেশাগত কাঠামো বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, পেশাজীবীদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করলেই চলবে না, নৈতিক দৃঢ়তা ও দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে।
এই সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনটি টেকনিক্যাল অধিবেশন এবং একটি সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।