
পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ যাত্রীর কোনো সন্ধান না মেলায় প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন তিনি। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অমনোযোগিতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। যথাসময়ে কার্যকর সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হতো।
নিখোঁজ যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। জানা গেছে, একটি ফেরি পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্য যাত্রীদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।