
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের একটি বিশেষ দপ্তর এবং ভিন্নমত দমনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশনের ১২তম কার্যদিবসে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিলটি পেশ করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
‘বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছে কমিশন’
বিলের তীব্র বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, ২০০৯ সালের আইনের মাধ্যমে পরিচালিত এই কমিশন কার্যত বিরোধী দল দমনের কারখানায় পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের কমিশন চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে চরম বিতর্কিত ও অমানবিক বক্তব্যও এসেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষায়, ‘এমনকি আমরা কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।’
সময় স্বল্পতা নিয়ে ক্ষোভ
গুরুত্বপূর্ণ এই বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন:
‘আজকের এই সংসদটি যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যারা এখানে এসেছেন তারা একটি ক্রান্তিকালীন সময় পার করে এসেছেন। অথচ জাতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে মাত্র ২ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। আমরা সংসদে অনেক বিষয়ে সময় অপচয় করি, কিন্তু এমন মৌলিক বিষয়ে সময় না দেওয়াটা দুঃখজনক।’
সিলেকশন কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, বর্তমান কাঠামোতে নিরপেক্ষ কাজ করা অসম্ভব। ৬ সদস্যের সিলেকশন কমিটির মধ্যে ৫ জনই সরাসরি সরকারি দলের প্রতিনিধি। স্পিকারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, একজন সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবং একজন সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকেন। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, এ ধরনের সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে গঠিত কমিশন মূলত সরকারেরই একটি বর্ধিত অংশে পরিণত হয়।
তদন্তের সীমাবদ্ধতা ও স্বচ্ছতার অভাব
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত করার ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের আইনের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে, তখন সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হয়।
‘সরকার নিজেই যেখানে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কতটা স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব, তা এ সংসদের সবার জানা।’
উল্লেখ্য, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে সংসদের বিরোধী পক্ষ থেকে এর প্রতি জোরালো আপত্তি জানানো হয়।