
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কেটে জমির আকৃতি পরিবর্তন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই ও বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। পরে আদালত কলাপাড়া থানা-পুলিশকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ভেকু নিয়ে বিদ্যালয়ের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করলে খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে কাফি প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত জায়গা থেকে অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে সরিয়ে ফেলেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা রায় পেয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমিটি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।’
প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের কথোপকথন বা সাক্ষাৎ হয়নি দাবি করে কাফি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সবার সামনে বেরিয়ে আসবে।’
এর আগে গত ১৪ জুলাই বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।