
সরকারি দপ্তর কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই কিছু সুবিধা পেতে পারেন, তবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা বদনাম ডেকে আনে—এমন কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, সকাল সাড়ে ১০টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) ক্ষমতায় আছি, নিশ্চয় আমাদের নেতাকর্মীরা সুবিধা পাবেন, তবে এমন সুবিধা আমরা দেব না, যা সরকারের বদনাম হয়। একজন চাঁদাবাজ হাসপাতালে এসে যদি চাঁদাবাজি করে সেটা তার ব্যক্তি লাভ হতে পারে। কিন্তু এই চাঁদাবাজের কারণে সরকারের উপরে যে কালিমা লিপ্ত হবে, সেই কালিমার দাগ সরকার নেবে না।’
সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বরিশালে জোর করে দলীয় পরিচয়ে একজন চেক সাইন করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা রাত পার হতে দেইনি। সেই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধী সে দলের (বিএনপি) যত বড়ই নেতা হোক না কেন, তার পরিচয় সে অপরাধী। কেউ যদি মনে করেন আওয়ামী লীগ লুটপাট করেছে, আর সেই খালি জায়গায় আপনি নিজেই বসে যাবেন, তাহলে ভুলের স্বর্গে বসবাস করছেন। এরকম ভুল ধারণা আপনারা করবেন না। আমরা এমন কোনো সুবিধা দলীয় নেতাকর্মীদের দেব না, যাতে করে দলের (বিএনপি) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দলের বদনাম হবে এমন কোনো কাজ কোনো দলীয় নেতাকর্মীর কাছ থেকে মেনে নেওয়া হবে না।’
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এই হাসপাতালের যেন শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কিছু পরিকল্পনা নিচ্ছি। এই জনপদের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদ আল মামুন।
এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
রেডফ্ল্যাগ শব্দ: নেই