
হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের কাচ পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সরাসরি বিএনপি ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করেছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা।
হামলার পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিলেটে ফিরে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ তুলে বলেন, তাদের বহনকারী যানবাহন লক্ষ্য করে ছাত্রদলের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে। এককালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যেভাবে বেপরোয়া আচরণ করত, বর্তমানে ছাত্রদলও হুবহু সেই পথেই হাঁটছে।
ভবিষ্যতে বিএনপির পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার চেয়েও বহু গুণ করুণ হবে উল্লেখ করে সারজিস আলম চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তারেক রহমান কি মানুষ মারার ঠিকাদারি নিয়েছেন। তার সিগন্যাল ছাড়া ও স্থানীয় বিএনপির নির্দেশনা ছাড়া হামলা করতে পারে না ছাত্রদল। তারা জিয়ার সৈনিক স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার বিশদ বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মিলনায়তনে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে হবিগঞ্জে তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাধার মুখে পড়ায় সিলেটে এই 'জুলাই পদযাত্রা' ঘিরে প্রথম থেকেই চরম নিরাপত্তা উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।
মতবিনিময় অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে বেলা পৌনে ৩টার দিকে এনসিপির গাড়িবহর সিলেট-জকিগঞ্জ মহাসড়ক ধরে যাওয়ার সময় গোলাপগঞ্জ বাজারের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সম্মুখে পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতকারী 'ভুয়া, ভুয়া' স্লোগান তুলে তাণ্ডব শুরু করে। ওই সময় এনসিপির বহর লক্ষ্য করে পেপসির বোতল ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হতে থাকে। আকস্মিক এই আক্রমণের মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ি দ্রুত গতিতে এলাকা ত্যাগ করে এবং স্থানীয় কর্মীরাও নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
পুরো ঘটনা তুলে ধরে সারজিস আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
হামলার বিষয়ে ক্ষিপ্র অবস্থান নিয়ে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার সম্রাট তালুকদার নিশ্চিত করেন, নির্দিষ্ট স্থানে গাড়িবহরে আক্রমণের তথ্য পুলিশ পেয়েছে। কারা এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পেছনে ছিল, ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তাদের দ্রুত সনাক্তকরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জের ঘটনার রেশ ধরে সিলেটে এনসিপির সভা আয়োজন নিয়ে একধরনের অস্পষ্টতা থাকলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সারজিস আলম ছাড়াও এই আবেগঘন মতবিনিময় সভায় অংশ নেন দলটির সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু।
সভায় নিজের বক্তব্যে সারজিস আলম সরকারের শীর্ষ নির্বাহী অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে পৌর ভবনের প্রধান ফটক পার হতেই এই হামলার শিকার হন তারা। পরবর্তীতে বহরটি সিলেট শহরে ফেরার পথে ‘পাঁচমাইল’ নামক স্থানে পৌঁছালে সেখানেও দূর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, তবে ভাগ্যক্রমে এতে বড় ধরনের ক্ষতি বা দুর্ঘটনা ঘটেনি।
একই দিনে দুপুরে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বায়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।