
মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ১৯৯ রানের মাঝারি লক্ষ্য। নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও তীক্ষ্ণ ফিল্ডিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৪৫.৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামানোর পর এবার রান তাড়ায় নেমেছে স্বাগতিকরা, যেখানে একাদশে আনা পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ একমাত্র পরিবর্তন হিসেবে দলে এনেছে সৌম্য সরকারকে, বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন। প্রথম ম্যাচে মাঝের ওভারে ব্যাটিংয়ের গতি থেমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আফিফ ধীরগতির ইনিংস খেলায় চাপ বাড়িয়েছিলেন, ফলে ব্যাটিং অর্ডারে নতুন গতি আনার লক্ষ্যেই সৌম্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলীয় ভাবনায়ও ছিল সামান্য রদবদল। ব্যাটিং অর্ডারে নমনীয়তা আনা এবং টপ অর্ডারে আগ্রাসন বাড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য। অনুশীলনে ভালো ছন্দে থাকা সৌম্যকে তাই এগিয়ে আনা হয়েছে, যাতে শুরুতেই রান তোলার গতি বাড়ানো যায় এবং মাঝের ওভারে চাপ কমে।
একই সঙ্গে ইনজুরির কারণে মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতিতে শরীফুল ইসলাম দলে জায়গা ধরে রাখেন, যিনি আগের ম্যাচে ভালো বোলিং করেছিলেন। ফলে বোলিং ইউনিটে ধারাবাহিকতা রাখা হলেও ব্যাটিংয়ে আনা হয়েছে পরিবর্তনের ছাপ।
এর আগে বল হাতে শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড, ২৮ বল পর্যন্ত আসে মাত্র ৪ রান। নাহিদ রানা প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংস ভেঙে দেন।
মাঝে নিক কেলি ১০২ বলে ৮৩ রান করে প্রতিরোধ গড়লেও শরীফুলের স্লোয়ারে আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে সেই লড়াই। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে থামে নিউজিল্যান্ড।
ফিল্ডিংয়েও ছিল বাংলাদেশের দাপট। উইকেটের পেছনে লিটনের ডাইভিং ক্যাচ, বাউন্ডারিতে নিয়ন্ত্রিত গ্রিপ এবং ইনফিল্ডে মিরাজদের নির্ভুল ফিল্ডিং ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেয়।
এখন সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ব্যাট হাতে পরীক্ষা বাংলাদেশের। একাদশে আনা পরিবর্তন কতটা কাজে লাগে, সেটাই নির্ধারণ করবে ১৯৯ রানের এই লক্ষ্য কতটা সহজ বা কঠিন হয়ে ওঠে।