
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ, এবার শুরু হচ্ছে শিরোপার আসল লড়াই। রবিবার (২৮ জুন) থেকে মাঠে গড়াচ্ছে শেষ ৩২ তথা নকআউট পর্ব। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলের সামনেই রয়েছে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ, কারণ এর আগে কোনো দলই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে আফ্রিকা। এবার মহাদেশটির ৯টি দল জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। সেই তালিকায় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্বে শুরুটা করেছিল হার দিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হলেও পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।
অন্যদিকে, স্বাগতিক কানাডাও জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি। ফলে নিজেদের মাঠে না খেলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে হচ্ছে তাদের।
ম্যাচের আগে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ সুখবর দিয়েছেন তারকা ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিসকে নিয়ে। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফুটবলার।
মার্শ বলেন, ‘আলফোনসো এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং খেলতে প্রস্তুত। এটি দলের জন্য বড় একটি মুহূর্ত এবং বিশাল প্রেরণা। সে আমাদের এক্স-ফ্যাক্টর। মাঠে তার উপস্থিতি, তাকে ঘিরে সতীর্থদের বিশ্বাস এবং নিজের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে আমাদের দলের সম্ভাবনাই বদলে যায়। এই টুর্নামেন্টে আমরা কী করতে পারি, সেটাও তার উপস্থিতি বদলে দিতে পারে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসও শেষ ৩২-এ ওঠাকে দলের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তবে নকআউট পর্বে এসেই বিদায় নিতে রাজি নন তিনি।
বেলজিয়ান এই কোচ বলেন, ‘এখনই বলতে পারি, আমাদের জন্য এই বিশ্বকাপ সফল। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা শুধু মাঠে নেমে হেরে দেশে ফিরে যেতে চাই। একবার যখন এখানে এসেছি, তখন আরও এগিয়ে যেতে চাই। আমরা আগামীকালের ম্যাচ জিততে চাই। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সেই মানসিকতা ও পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে আমাদের জয়ের সুযোগ থাকবে। যদিও কানাডা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ।’
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই তাই নিশ্চিত হচ্ছে নতুন এক ইতিহাস। কানাডা কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা—যে দলই জয় পাবে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে উঠে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।