
বিশ্বকাপের ইতিহাসে শিরোপা ঘুরেফিরে গেছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি পরিচিত শক্তির হাতেই। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়েছে, আয়োজক বদলেছে, নিয়মেও এসেছে নানা পরিবর্তন—তবু বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তালিকায় আধিপত্য বজায় রেখেছে ঐতিহ্যবাহী শক্তিগুলো।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেই চিত্র বদলে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে দুটি দল—জাপান ও মরক্কো। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, আর মরক্কো মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই ম্যাচ শুধু নকআউট লড়াই নয়; বরং ফুটবলের নতুন শক্তিগুলোর সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ।
মরক্কো ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পর ২০২২ সালে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। ইউরোপে বেড়ে ওঠা প্রবাসী ফুটবলারদের পাশাপাশি দেশীয় ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিও তাদের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে জাপানের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠেছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে। ১৯৯২ সালে শুরু হওয়া জে লিগ দেশটির ফুটবলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেললেও তাদের বেড়ে ওঠা নিজ দেশের ফুটবল কাঠামোর মধ্যেই।
কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে জাপান নিজেদের একটি স্বতন্ত্র খেলার ধরন গড়ে তুলেছে। সংগঠিত প্রেসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত আক্রমণভিত্তিক ফুটবল তাদের অন্যতম শক্তি।
অন্যদিকে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখনও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। যদিও দলটির কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তবুও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো ম্যাচজয়ী ফুটবলারদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে সবসময়ই ভয়ংকর প্রতিপক্ষ করে তোলে।
মরক্কোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নেদারল্যান্ডসের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে থামানো। বিশেষ করে ব্রায়ান ব্রোব্বে এবং কোডি গাকপোর মতো খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে রাখাই হতে পারে তাদের সাফল্যের অন্যতম শর্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডস নিজেদের অভিজ্ঞতায় জয় তুলে নিতে পারে। তবে জাপান ও মরক্কো যদি চমক দেখাতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান