
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও হতাশায় ভেঙে পড়েননি মরক্কোর কোচ ওয়াহাবি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হার মেনে নেওয়ার মতোই, তবে এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মরক্কোর ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর আবারও ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকার দলটিকে।
ম্যাচ শেষে ওয়াহাবি বলেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল। তাদের মতো দলের সঙ্গে এই ফলাফল মেনে নেওয়ার মতোই। আমরা জয়ের চেষ্টা করেছি, পারিনি।’
পুরো টুর্নামেন্টে আগের ম্যাচগুলোর মতো নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি মরক্কো। আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পেরে বেশির ভাগ সময়ই প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে হয়েছে তাদের। এর কারণ হিসেবে ফ্রান্সের শক্তিমত্তাকেই সামনে আনেন মরক্কো কোচ।
তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা কিছু সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের এত কোয়ালিটি ও ব্যাকআপ এজন্য সেভাবে সম্ভব হয়নি।’
ফ্রান্সকে হারাতে পারলে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল মরক্কোর। সেই সম্ভাবনা আপাতত বাস্তবায়িত না হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ওয়াহাবি।
তার ভাষায়, ‘ফ্রান্স টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালস্টি। এবারও শিরোপার দাবিদার, এমন দলের সঙ্গে পরাজয় নতুন করে পথ দেখাবে। মরক্কোর ফুটবল আগের চেয়ে এগিয়েছে, নতুন প্রজন্ম দেখছে দুই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স। সামনে আমাদের দেশেই বিশ্বকাপ হবে। ফুটবলে অনেক কাজের জায়গা আছে।’
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর যাত্রা শুরু হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের পথচলা থামে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে। পুরো অভিযানে নিজের দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিকই বেশি দেখছেন ওয়াহাবি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ধারাবাহিক উন্নতি করে এই পর্যন্ত এসেছিলাম। ফ্রান্সের মতো দলের সঙ্গে আমরা জয়ের জন্যই নেমেছিলাম।’
বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতা নিজের কোচিং ক্যারিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মরক্কোর এই কোচ।
তার কথায়, ‘কার্লো আনচেলত্তি, দিদিয়ের দেশমের অন্যপ্রান্তে দাড়িয়ে কোচিং করেছি। এটা আমার জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।’