
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে বিরল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান। তার মৃত্যুর পর রাজধানী কাবুলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগান ক্রিকেট বোর্ড তাকে দেশের ক্রিকেটের ‘ভিত্তি স্থাপনকারী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) শাপুর জাদরানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বোর্ড জানায়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিরল ব্যাধি হিমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ)-এ আক্রান্ত হয়ে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি মারা যান। মৃত্যুর একদিন পর বৃহস্পতিবার কাবুলের ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদে তার জানাজায় হাজারো ভক্ত, সতীর্থ, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
শোকবার্তায় এসিবি বলেছে, আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে শাপুর জাদরানের অবদান ছিল অনন্য। তার নিষ্ঠা, আবেগ ও প্রতিশ্রুতি দেশের ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জানাজায় জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী, ফজল হক ফারুকীসহ বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন তালেবান কর্মকর্তাও সেখানে অংশ নেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ওয়াহিদুল্লাহ ওয়াহদাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাপুরের মৃত্যুর খবর দেখেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, লম্বা চুলের জন্য পরিচিত শাপুর ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও সবার প্রিয় একজন মানুষ।
আরেক ভক্ত মোহাম্মদ উসমান মাফতুন বলেন, শাপুরের মৃত্যু আফগান জাতির জন্য বড় ক্ষতি।
শাপুর জাদরান ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চারটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই আসরগুলোতে তিনি ৯ ম্যাচে ৯টি উইকেট নেন।
চিকিৎসকদের মতে, হিমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস বা এইচএলএইচ একটি বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে সুস্থ কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপরই আক্রমণ চালায়। ফলে লিভার, প্লীহা, অস্থিমজ্জা ও মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে তীব্র প্রদাহ ও জটিলতা দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এইচএলএইচ বংশগত কারণেও হতে পারে, আবার ভাইরাস সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ, রক্তের ক্যানসার বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেও দেখা দিতে পারে। টানা উচ্চ জ্বর, চরম দুর্বলতা, লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, জন্ডিস, ত্বকে র্যাশ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। কর্টিকোস্টেরয়েড, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্টেম সেল বা বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনেরও প্রয়োজন হয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, এএফপি