
পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করে ৫৯ বছর বয়সী কাজুয়োশি মিউরা জাপানের সবচেয়ে পুরোনো কাপ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।
‘কিং কাজু’ নামে পরিচিত মিউরা বর্তমানে পেশাদার ফুটবলে নিজের ৪২তম মৌসুম খেলছেন। এমপেরর’স কাপে তৃতীয় বিভাগের দল ফুকুশিমা ইউনাইটেডের ৭-০ গোলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ১০৬ বছরের পুরোনো এই প্রতিযোগিতার জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বেও গোল করেছিলেন মিউরা।
২০০৫ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এফসির হয়ে গোল করার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে একাধিক গোল করলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পেশাদার জে-লিগ চালুর সময় জাপানের প্রথম ফুটবল সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মিউরা জানান, অনুশীলন শেষে প্রায় প্রতিদিনই তিনি পেনাল্টি অনুশীলন করেন।
বুধবারের কীর্তির পর সাংবাদিকদের মিউরা বলেন, “কখন আপনার পালা আসবে, তা তো কখনোই জানা যায় না। তাই আমি সব সময় এগুলোর অনুশীলন করি। ভালো লাগছে যে অনুশীলনের ফল পেয়েছি।”
তার দুই গোল এমপেরর’স কাপের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ৪১ বছর বয়সী সাবেক জাপান জাতীয় দলের খেলোয়াড় শিনজি ওনো।
মিউরা ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন এবং ৫৮ মিনিট পর্যন্ত খেলেন। ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর ৫৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে ফুকুশিমা আবারও পেনাল্টি পায়। সেখান থেকেও গোল করেন মিউরা।
তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কেউ দুয়ো না দেওয়ায় পরিবেশটা ছিল অন্যরকম, এক ধরনের নীরবতা ছিল।” “আমি অনুভব করতে পারছিলাম, সবার চোখ আমার দিকে। এমন পরিস্থিতিতেও দুটো পেনাল্টি কাজে লাগাতে পেরে ভালো লাগছে।”
১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় মিউরার। এরপর ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালেও খেলেছেন তিনি।
১৯৯০ সালে জাপান জাতীয় দলে অভিষেক হলেও ১৯৯৮ সালে জাপান প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ার সময় দলে জায়গা পাননি মিউরা। জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করার পরও ওই বিশ্বকাপের দলে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
জানুয়ারিতে ফুকুশিমায় যোগ দেন মিউরা। নতুন ক্লাবটি তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।