
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই পাল্টে যাচ্ছে সাইবার অপরাধের ধরন। আগে যেখানে সাধারণ প্রতারণার ফাঁদে মানুষ পড়ত, এখন সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এআই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও দ্রুত বাড়ছে।
শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা দৈনন্দিন কাজ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন এআই প্রযুক্তির ছোঁয়া। কিন্তু একই সঙ্গে হ্যাকাররাও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও নিখুঁত সাইবার হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচিত মানুষের কণ্ঠ বা মুখাবয়ব নকল করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখনকার ফিশিং ইমেইল বা ভুয়া বার্তাগুলোও আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। ভাষা, নকশা ও উপস্থাপনায় এতটাই বাস্তব মনে হয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে ভুয়া ও আসল বার্তার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এআইচালিত ম্যালওয়্যারও দ্রুত রূপ বদলাতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক সময় এসব হামলা শনাক্ত করতে পারছে না। বাংলাদেশেও এই ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিজিডি ই-গভ সার্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেস সাইবার হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় নতুন আইন কার্যকর করেছে সরকার। ‘ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এ ব্যবহারকারীর তথ্যকে তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬’-এ ডিজিটাল অপরাধ ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনলাইন অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়ছে, নিরাপত্তা সচেতনতার প্রয়োজনও তত গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।