
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামে এক অনন্য মানবিকতার নজির সৃষ্টি করেছে কলেজছাত্র সোহান। একটি অসহায় অন্ধ ঘোড়াকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় ও লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এই তরুণ। সোহানের এই মহতী উদ্যোগের খবর জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা সোহানের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার পর এই সহায়তা পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। অনেকেই বিষয়টি দেখেও এড়িয়ে গেলেও চান্দুড়িয়া গ্রামের ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী সোহান স্থির থাকতে পারেনি। সে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় পশুচিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান যে, ঘোড়াটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং চিকিৎসার মাধ্যমেও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। চিকিৎসকের এমন মন্তব্যের পরও সোহান ঘোড়াটিকে ফেলে না দিয়ে নিজের পরিবারের সহযোগিতায় সেটির সম্পূর্ণ পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়।
এই বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোহান জানায়, দুচোখ অন্ধ হলেও এটি একটি জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটি প্রাণীকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে না পেরেই সে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে এবং যতদিন প্রাণীটি বেঁচে থাকবে, ততদিন তারা এর যত্ন নেবে। ছেলের এই মানবিক কাজে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন তার বাবা নাঈম হোসেন। তিনি জানান, ছেলের আগ্রহের কারণেই ঘোড়াটিকে তারা বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাধ্যমতো দেখাশোনা করছেন। মানুষ হিসেবে অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো সবারই দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান স্বার্থকেন্দ্রিক সমাজে একটি অসহায় ও দৃষ্টিহীন প্রাণীর প্রতি সোহানের এমন অকৃত্রিম মমত্ববোধ মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার এই মানবিক উদ্যোগটি এখন পুরো এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।