
আন্তসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পানিবণ্টন চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন চুক্তি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা জোরদারে কাজ চলছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আন্তসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) আরও কার্যকর করা এবং ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উজানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক কারণেও উজানে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপর পড়ছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে চলতি জুন মাসের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৬৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে মোট ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।