
ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিও ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থা কার্যত নেই এবং দেশটির সরকার সৈন্য ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই মূল্যস্ফীতির হিসাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার দেওয়া পরিসংখ্যানের সঙ্গে ট্রাম্পের দাবির পার্থক্য রয়েছে।
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির শাসকগোষ্ঠী পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে এবং তারা আর ইরানের জনগণের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা রাখে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যরা সেখানে মাইন ও রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর জবাবে ইরানও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটির সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে ট্রাম্পের করা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতির বিষয়ে সব দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও ইরান বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।