
বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া ইরানপন্থি বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
একই সময়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডে জানিয়েছে, বাহরাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিত্রা দ্বীপে সংঘর্ষের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থানের দৃশ্য দেখা যায়। বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, আটক কয়েকজন সামাজিক মাধ্যমে ইরানের হামলার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সাইবার অপরাধ দমন অধিদপ্তর জননিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছে, যেখানে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেখানো হয়। এসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ১৪তম ধাপে তারা বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, নৌবাহিনী ভোরের দিকে ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
হামলার দাবির পর বাহরাইনজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে