
বিতর্কিত এক-এগারো সরকারের নেপথ্য কারিগর এবং সেই সময়ের অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান হোতা ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী—এমনটাই মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১০ মে) ট্রাইব্যুনালে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ
গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অনুমতি সাপেক্ষে গত শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। চিফ প্রসিকিউটর জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো এখন নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
এক-এগারোর ‘ডিফ্যাক্টো’ সরকার
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম এক-এগারোর শাসনামলে মাসুদ উদ্দিনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন:
‘এক-এগারোর যে সরকারটি ছিল, সেখানে মাসুদ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে ‘ডিফ্যাক্টো গভর্মেন্ট’ (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তারা চালাতেন। সেই কারণে তখনকার সময়ে যেসব অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি (মাসুদ উদ্দিন)।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা
মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেবল এক-এগারোর অভিযোগই নয়, বরং সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনাপ্রবাহে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে প্রসিকিউশন। এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন:
‘মাসুদ উদ্দিন একটা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেই সূত্র ধরে তারা তাদের আওতায় তাকে (মাসুদ উদ্দিন) নিয়ে এসেছেন। তারা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় ইনভেস্টিগেশন করছেন না। ফেনীর বিষয় নয়, সব বিষয়ই তারা নিয়ে আসছেন। যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে তার সম্পৃক্ততা থাকবে, সেখানে তারা তাকে (মাসুদ উদ্দিন) নিয়ে আসবেন।’
তদন্তের আওতা
প্রসিকিউশন স্পষ্ট করেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাসুদ উদ্দিনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সব বিতর্কিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং অপরাধের প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।