
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের গাড়ি আটকানো, তার গাড়িচালককে মারধর এবং মব সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক পরিবহন চালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এসআর পরিবহনের ওই চালককে হাকিমপুর (হিলি) থানা পুলিশ শনিবার (৭ মার্চ) রাতে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনা ঘটে দিনাজপুরের হিলি চারমাথা মোড়ে রাত প্রায় ৯টার দিকে।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত ছুটিতে তিনি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ছিলেন। ছুটি শেষে শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে মাইক্রোবাসে কর্মস্থল ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় ইফতার শেষে যাত্রা পুনরায় শুরু করেন তিনি। সাথে ছিলেন দেহরক্ষী কনস্টেবল মাহাফুজুর রহমান ও গাড়িচালক কনস্টেবল আবু বক্কর সিদ্দীক।
পথে হিলির দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়ির সামনের দিকে এসআর পরিবহনের একটি কোচ চলছিল। পেছন থেকে গাড়িটি সাইড দেওয়ার সংকেত দিলেও মাইক্রোবাসটি যখন ওভারটেক করতে চেষ্টা করে, তখন বাসটি মাইক্রোবাসের দিকে চাপিয়ে দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তবে পুলিশ সুপারসহ অন্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
পরবর্তীতে কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িটি থামানো হলে এসপির দেহরক্ষী ও চালকের সঙ্গে এসআর পরিবহনের চালক ও সুপারভাইজারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ সুপার নিজ পরিচয় দিলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরে সুপারভাইজারের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
কিন্তু হিলি চারমাথা মোড়ে পৌঁছালে একই বাস স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আবারও পুলিশ সুপারের গাড়ি থামায় এবং কোনো কিছু বোঝার আগেই গাড়িচালককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হিলি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কোনো শ্রমিক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়ায়, তার দায়ভার আমরা নেব না। এসআর পরিবহনের ড্রাইভারের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধী হলে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”
হাকিমপুর (হিলি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, “ঘটনার শুরু থেকেই এসআর পরিবহনের চালক মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।”
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, “আমি শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। প্রথমে থামিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ড্রাইভার অসৌজন্যমূলক আচরণ চালিয়ে গেল। মীমাংসার পরও তারা আবার স্থানীয় কিছু লোক নিয়ে গাড়ি থামিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। ঘটনার সময় ও পরে তারা বারবার মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে, যেখানে ড্রাইভারের বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও পরবর্তী পরিস্থিতি দেখা যায়। বিষয়টি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।”