
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ সৃষ্ট দুর্বল প্রকৃতির একটি টর্নেডো তাণ্ডব চালিয়েছে। আকস্মিক এই ঘূর্ণিবাতাসে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছাতা-চেয়ার, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার মধ্যেই এ প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে। হঠাৎ সৃষ্ট ঘূর্ণিবাতাসে সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দ্রুত সৈকত ত্যাগ করেন। ঘটনার পর কয়েকজন পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে যান।
সৈকতে দায়িত্ব পালনরত ‘সি সেইফ লাইফগার্ড’-এর সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকেই আকাশে মেঘ ছিল। বিকেল ৩টার দিকে সাগরের ওপর কালো ঘূর্ণির মতো একটি অংশ তৈরি হয়ে প্রবল বাতাস ও জলরাশি নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। সৈকতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় এটি সামনে থাকা বিভিন্ন বস্তু উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন পর্যটক পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজার সৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিবাতাসে অন্তত ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ও লকারও ভেঙে গেছে।
ঘটনার পর সৈকতে অবস্থানরত অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে আসা অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের ডিউটি ম্যানেজার মুশফিকুর রহিম জানান, সকালে হোটেলে ওঠা বেশ কয়েকজন অতিথি বিকেলে সৈকতে যান। টর্নেডোর অভিজ্ঞতার পর তারা হোটেলে ফিরে নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।
দূরপাল্লার বাস পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কাওসার খান বলেন, সাধারণত শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার থেকে ফেরত যাত্রীর চাপ কম থাকে। তবে টর্নেডোর ঘটনার পর অনেক পর্যটক তড়িঘড়ি করে বাসে ফিরে গেছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, সৈকতে দেখা দেওয়া ঘূর্ণিবাতাসটি দুর্বল প্রকৃতির একটি টর্নেডো। উপযুক্ত আবহাওয়াগত পরিবেশ তৈরি হলে বছরের যেকোনো সময় এ ধরনের টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটলেও বাংলাদেশেও অতীতে এ ধরনের দুর্যোগের একাধিক নজির রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ ভয় পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে চলে গেলে সেটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে এ বিষয়ে হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রেডফ্ল্যাগ শব্দ: নেই