
কুড়িগ্রামের কৃষকদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে শুরু হলো নতুন এক কর্মযজ্ঞ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রোববার (১০ মে) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আনুষ্ঠানিক সূচনা ও বৃক্ষরোপণ
দুপুরে সদর উপজেলার আরাজী পলাশবাড়ি এলাকায় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী। খনন কাজ উদ্বোধনের পর তিনি পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে একটি চারাগাছ রোপণ করেন। উল্লেখ্য, আগামী পাঁচ বছরে দেশের নদী, নালা ও খাল পুনরুদ্ধারে সরকারের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, এটি তারই একটি অংশ।
প্রকল্পের বিস্তারিত ও ব্যয় বরাদ্দ
কুড়িগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এই প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে।
মোট বরাদ্দ: প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
শ্রমিক মজুরি: ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা (১১৯ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করবেন)।
অন্যান্য অবকাঠামো: প্রায় ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি কালভার্ট নির্মাণসহ ভেকু দিয়ে মাটি কাটা ও বৃক্ষরোপণ করা হবে।
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এই উন্নয়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপকারভোগী ও কৃষি উন্নয়ন
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন জানান, প্রথম পর্যায়ে জেলার ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলার মোট ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় কৃষক আবদুল জব্বার নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এক সময় দাশেরহাট ছড়ার পানি এই ক্যানেল দিয়ে ধরলা নদীতে গিয়ে পড়ত। এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আশপাশের ফসলের ক্ষতি হয়। খাল পুনঃখনন হলে কৃষকের অনেক উপকার হবে।’
উপস্থিত ছিলেন যারা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর ব্যস্ত সফরসূচি
এর আগে সকালে মন্ত্রী লালমনিরহাটের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম পৌঁছান। খাল খনন উদ্বোধনের আগে তিনি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ‘নালিয়ারদোলা’ নামক স্থানটি পরিদর্শন করেন।