
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের ওপর একের পর এক পাল্টা আঘাত হেনে চলেছে তেহরান। এবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মূল নিশানা হয়েছে কুয়েতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল শোধনাগার, যেখানে মুহুর্মুহু হামলায় তেল খাতের ওই স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের তেল শিল্পের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি কেন্দ্রে কয়েক দফায় উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং পুরো স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনার বরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে ঘটনার পরপরই পুরো শোধনাগারটি খালি করে ফেলা হয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
কুয়েত দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকালে হামলার পরপরই শোধনাগারের দুটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী জখম হয়েছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আহতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ দেশের সাধারণ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার সময়ই এই শব্দগুলো তৈরি হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে টানা সাত রাত ধরে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনা মোতাবেক ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আক্রমণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
পাল্টা জবাবে ইরান অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে ইরান পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের বিধ্বংসী হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা পূর্ণ যুদ্ধে নামব। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।"