
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ফের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরানকে এক নজিরবিহীন চরমসীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তেহরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটির ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে বলে স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এই চরম হুঁশিয়ারির পরপরই হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে এই মুহূর্তে মার্কিন প্রশাসনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। আর এই কারণেই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের চলমান এই ইরান সংঘাত খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই হুমকির সুরেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউজের সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই ইরানে পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তবে ওয়াশিংটনের এমন যুদ্ধংদেহী অবস্থানকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে পাল্টা হুঙ্কার ছেড়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে যদি পুনরায় নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হয়, তবে রণক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমন কিছু নজিরবিহীন চমক অপেক্ষা করছে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না। একই সাথে আমেরিকার অহংকার হিসেবে পরিচিত আরও বেশ কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার আগাম হুমকিও দিয়ে রেখেছেন এই ইরানি কূটনীতিক।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই তীব্র উত্তেজনা এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম স্থবিরতার মাঝেই বিশ্বমঞ্চে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ক্রেমলিন। দীর্ঘদিনের এই দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্ব নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার পথকে আরও সহজ ও মসৃণ করতে রাশিয়া সব ধরনের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এনেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বুকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যৌথ ভয়াবহ সামরিক হামলা চালিয়েছিল, তার আসল মোটিভ বা নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে সম্পূর্ণভাবে হটিয়ে দিয়ে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনরায় তেহরানের ক্ষমতায় বসানোর এক গোপন ও গভীর নীল নকশা তৈরি করেছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব প্রশাসন।