
দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শুধু হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস নয়, ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা বলছেন, হালকা শারীরিক নড়াচড়া বা দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজও এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সম্প্রতি পিএলওএস মেডিসিন (PLOS Medicine) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার বদলে ধীরগতিতে হাঁটা, ঘরের কাজ করা বা নিয়মিত শরীর নড়াচড়া করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমতে পারে।
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৯১ হাজারের বেশি মানুষের পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড়ে ১২ বছর পর্যবেক্ষণ করার পর গবেষকরা দেখেন, যারা বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটানা বসে থাকার প্রতি অতিরিক্ত এক ঘণ্টার সঙ্গে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণায় যেসব ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী ও থাইরয়েড ক্যান্সার।
গবেষকদের মতে, প্রতিদিন এক ঘণ্টা বসে থাকার পরিবর্তে ইস্ত্রি করা, থালা-বাসন ধোয়ার মতো হালকা কাজ করলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম থাকতে পারে। একইভাবে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম, যেমন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা, ঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকতে পারে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট ডা. ডেভিড ইয়াশার বলেন, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার ভাষ্য, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা ক্যান্সার কোষের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া স্থূলতা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলে, যা স্তন ক্যান্সারের মতো কিছু হরমোন-নির্ভর ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারে মৃত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিকসের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।