
বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মান দেওয়া হলেও বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের ধারাবাহিক সাফল্যের পরও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এর আগে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেও রাষ্ট্রীয় সম্মান নেই
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের জন্য সাফল্য অর্জন করে যারা দেশে ফেরেন, তাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। কিন্তু কোরআনের হাফেজরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেও এখন পর্যন্ত তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একই ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দিই, সম্মানিত করি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোরআনের হাফেজরা এই যে বারবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের মুখ, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
কওমি ও হিফজ শিক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ
কওমি ও হিফজ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি বা কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা কওমি সিস্টেমের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, যারা হিফজের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের কোনো কমিটমেন্ট নেই, কোনো ডেলিভারি নেই। এটা একটা সাফসফা বৈষম্য।’
চার প্রতিযোগী, চারজনই বিজয়ী
এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান শফিকুর রহমান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অংশ নেওয়া চারজনই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এবং অন্য তিনজন তৃতীয় স্থান পেয়েছেন।
বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু সংবর্ধনার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। তাদের আরও বিভিন্ন উপায়ে সম্মানিত করার সুযোগ রয়েছে। সরকারকে সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
‘প্রিম্যাচিউর’ মন্তব্যের জবাব
এদিকে বিরোধী দলের লংমার্চ ‘প্রিম্যাচিউর’ সময়ে হচ্ছে—সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর যে ধরনের সমাজের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকেই তাদের এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘প্রিম্যাচিউরিটি’ শব্দটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি তাকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ওনাকে আল্লাহ আগে ম্যাচিউরিটি দান করুক। আমরা অনেক ম্যাচিউরিটি দেখছি এই সমাজে। ম্যাচিউরিটির জ্বালায় এখন মানুষ অতিষ্ঠ। ওই ম্যাচিউরিটি থেকে আল্লাহর দরবারে আমরা পানাহ চাই।’
বিজয়ীদের পুরস্কার প্রায় আড়াই কোটি টাকা
অনুষ্ঠানে রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, চার বাংলাদেশি প্রতিযোগীর মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশে ফিরেছেন। তাদের পাওয়া পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
তবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কোনো সম্মাননা বা সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশিদের সরকারি সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেওয়ার দাবি জানান মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা।