
রাজধানীর খিলক্ষেতের কুড়িটোলা স্কুলরোড এলাকা থেকে মো. হাবিবুল্লাহ নাঈম (১২) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজের পরদিন রাতে পরিবারের কাছে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি করা হয়েছে। ফোনে শিশুটির কান্নার শব্দও শোনা গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িটোলা স্কুলরোডের ভাড়া বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে যায় নাঈম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির মা মোছা. শরীফা খাতুন।
নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন জানান, ঘটনার দিন ছয় বছর বয়সী ছোট ভাই আদিলের সঙ্গে নাঈমের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে মা তাকে বকাঝকা করলে রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে। বের হওয়ার সময় তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটিও পরে বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
এসআরবির কাছে করা আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করা হয়। ফোনদাতা দাবি করেন, নাঈম তাদের হেফাজতে রয়েছে। এ সময় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা যায়। ফোনদাতা আরও দাবি করেন, শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন করে একটি বাথরুমে আটকে রাখা হয়েছে।
পরে অজ্ঞাত ব্যক্তি শিশুটিকে ‘হাজী বাড়ি ক্যাম্প এলাকায়’ রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন। এরপর ওই নম্বরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নাঈমের বাবা মো. বাবুল ইসলাম ও মা মোছা. শরীফা খাতুন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হাজনা নাটোর গ্রামে। বর্তমানে তারা খিলক্ষেতের কুড়িটোলা স্কুলরোড এলাকায় বসবাস করছেন।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
এসআরবির কাছে করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, নাঈম তাদের হেফাজতে আছে। এ সময় ফোনে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা যায়। ফোনে নাঈমকে শারীরিক নির্যাতন করে একটি বাথরুমে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। পরে ‘হাজী বাড়ি ক্যাম্প এলাকায়’ রয়েছে বলে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে ওই নম্বরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, থানায় ডিজি হয়েছে। আমরা শিশুটিকে খোঁজে পাওয়ার জন্য কাজ করছি।