
বাংলাদেশে কার্যরত চীনা কোম্পানিগুলোর অন্যতম শীর্ষ সংগঠন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (CEAB)-এর ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে আজ (৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. মা বেন (Ma Ben)।
বৈঠকের শুরুতে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কৌশল প্রণয়ন চলছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যৌথ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ এই প্রক্রিয়ায় সিইএবি-এর সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেরও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া আজকের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়নে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ডিএসই আগ্রহী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে তাদের বিনিয়োগ ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করবে।
আজকের সভাকে উভয় পক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে চায়নিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. মা বেন বলেন, এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি) এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৫০-এর বেশি, যারা বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয়। বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় সব বড় চীনা কোম্পানিই এই সংগঠনের সদস্য।
তিনি বিদ্যুত উত্পাদন, টানেল, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, পয়ঃশোধনাগার এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করে যাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরে ডিএসই’র সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কামরুন নাহার ডিএসই’র বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য ও অবহিত প্রদান করেন।
বৈঠকে চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (CEAB)-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সমুহের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন-চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (China Business Association), হুয়াওয়ে (Huawei), চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং(China Civil Engineering), মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন (Mengfei’s Supply Chain), জিংসু কনস্ট্রাকশন (Xingxu Construction), হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট (Hunan Construction Investment), চেন হুইমিন (Chen Huimin), হুইসি দা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ল’ ফার্ম (Huisi Da Accounting and Law Firm), চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো(China Railway First Engineering Bureau), বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন (Bangladesh Sino-Source Construction), সিকেডি লেজার (CKD Laser), ডংজিং গ্রুপ(Dongjing Group), কোকো ফ্যাশন (Coco Fashion), জিয়াংসু গুয়োতাই হুয়াশেং(Jiangsu Guotai Huasheng), শিন গাও টেক্সটাইল (Xin Gao Textile), জিংতাই রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি(Xingtai Road and Bridge Company), বিওএফ (BOF), ভিভো (Vivo) এবং শেনজেন কিংডম(Shenzhen Kingdom )৷
বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস; প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মোঃ আসিফুর রহমান; প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোঃ আদিব হোসেন খান, এফসিএ; সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শন করেন৷