
সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার পরেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নে চাল পাননি ৬৬৫ জন কার্ডধারী জেলে। সরকারি এই মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্থানীয় নদীপাড়ের মেহনতি মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী জেলেরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলছেন।
আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবেগি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে বঞ্চিত জেলেরা নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গোলখালী ইউনিয়নে সরকারি তালিকা অনুযায়ী মোট ১ হাজার ৬১৫ জন কার্ডধারী জেলে রয়েছেন। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এবার বাস্তবে চালের সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৯৫০ জনের জন্য। এর ফলে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ৬৬৫ জন জেলে কোনো প্রকার সরকারি খাদ্য সহায়তা পাননি।
নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ভুক্তভোগী জেলেরা বলেন, "আমাদের নাম সরকারি তালিকায় রয়েছে। তারপরও আমরা চাল পাইনি। আমরা চাই সরকার যে তালিকা করেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী সবাইকে চাল বিতরণ করা হোক।"
এদিকে, বরাদ্দ না পেয়ে চরম সংকটে পড়া জেলেদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইউপি চেয়ারম্যানের বণ্টন প্রক্রিয়া ও অবহেলার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তীব্র সমালোচনা করছেন।
তবে সাধারণ জেলেদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই অনুযায়ীই চাল বণ্টন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আরও মন্তব্য করেন, "সরকারের তালিকা অনুযায়ী যেন সব জেলে তাদের প্রাপ্য সহায়তা পান, সেই দাবির সঙ্গে আমরাও একমত।"
প্রকৃত জেলেরা যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।