
একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত টাকার কার্লসন এখন সেই অবস্থানের জন্য প্রকাশ্যে অনুশোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জোরালো সমর্থন ও পরামর্শ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি মানুষের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হওয়ার পরই এ মন্তব্য করেন রক্ষণশীল সাংবাদিক ও ভাষ্যকার কার্লসন।
২০২৪ সালে ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন নিয়মিতই তার পাশে দেখা যেত কার্লসনকে। তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দিতেন এবং নানা পরামর্শও দিতেন। তবে এখন সেই ভূমিকাকে নিজের জন্য ‘যন্ত্রণার’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপক।
কার্লসন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘যন্ত্রণায়’ ভুগবেন।
গত সোমবার প্রকাশিত নিজের পডকাস্টের এক পর্বে তিনি বলেন, বর্তমান ইরান পরিস্থিতির পেছনে তিনিও আংশিকভাবে দায়ী। তার ভাষায়, সেখানে যা ঘটছে, তার সঙ্গে তিনি নিজেও যুক্ত—কারণগুলোর একটি অংশ।
কার্লসন আরও বলেন, ‘শুধু এটা বলা যথেষ্ট নয় যে আমি আমার মত বদলেছি বা এটা খারাপ, আমি আর এসবে নেই।’
নিজের ভাই বাকলের সঙ্গে আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন একটা সময়, যখন আমাদের নিজেদের বিবেকের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এ নিয়ে কষ্ট পাব। আমি পাব। তাই আমি বলতে চাই, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আমি দুঃখিত।’
দীর্ঘদিন ফক্স নিউজে উপস্থাপনা করা কার্লসন বরাবরই বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন। তাই ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তার মতবিরোধ চলছিল।
এ বছরের ইস্টারে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটিকে ‘নরকে পরিণত’ করা হবে। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে কার্লসন ট্রাম্পের আচরণকে ‘অশুভ’ আখ্যা দেন এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্পও। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি কার্লসনসহ রক্ষণশীল সমালোচকদের ‘বোকা’ বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, কার্লসনের একজন ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন এবং ২০২৩ সালে ফক্স নিউজ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি আর আগের মতো নেই।
গত শুক্রবারও ট্রাম্প কার্লসনকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কার্লসন একজন স্বল্প বুদ্ধির মানুষ। তাঁকে হারিয়ে দেওয়া সহজ। তাঁকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে।’
কার্লসনের এই অনুশোচনামূলক বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্লসনের সমালোচনা করে লেখেন, ‘কার্লসন দেশকে ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
এদিকে, ২০২৫ সালের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রকাশিত তথাকথিত ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ও ‘জায়নবাদবিরোধী’ শীর্ষ ১০ ইনফ্লুয়েন্সারের তালিকায়ও নাম এসেছে কার্লসনের। তালিকায় থাকা ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।