
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এবার ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ দেশটির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর নেতৃত্বে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (জেএসএসসি-সিজিএল) পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে এবং ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি রুপির বিনিময়ে আসন বিক্রি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিলের পাশাপাশি সিবিআই অথবা রাজ্যের বাইরের কোনো হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একাধিকবার দাবি জানানো হলেও সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে তারা আমরণ অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছেন। এরই মধ্যে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা জেপিএসসি প্রধান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
দিল্লির জন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনটি মূলত দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিট পরীক্ষার দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। পরে তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। অন্যদিকে রাঁচির চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ২৫ বছরের বেশি বয়সী চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে এবং তার সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এর আগে রাঁচির সাব-ডিভিশনাল অফিসার কুমার রজত এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধনঞ্জয় কুমার আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে এই আমন্ত্রণের বার্তা পৌঁছে দেন।
সূত্র: এনডিটিভি