
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলারে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি ও ডলার সংকটের মধ্যেও রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩০.৪৬ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভে এ ধরনের বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত বহন করে। সাধারণত আকু বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে যায়, তবে এবার তা দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে।
বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তিন মাসের রিজার্ভকেই নিরাপদ ধরা হয়, সে হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানকে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।