
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে শনিবার ভোর ৫টার দিকে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন।
প্রথমে ঘটনাস্থলে যান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী, সদর উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামসহ অনেকে।
হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “গত রাতে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য নাসির মেম্বারের বাড়িতে উত্তেজনা ও গণ্ডগোল হয়েছিল। পরে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল। আজকের দিনটিতে টিপু চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান বুলবুলসহ কিছু ব্যক্তি বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পরিকল্পনা করছিল। আল্লাহর রহমতে তারা নিজেরাই বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। এখানে দুইজন মারা গেছে এবং তিনজন আহত হয়েছে। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে যারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছে, তাদেরকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই তারা এই প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”
অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা জামায়াতের আমিররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লতিফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তিনি না দিলেই পারতেন। জামায়াতকে তদন্তের আগেই সরাসরি জড়িয়ে দিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, আসল দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাটাপাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. কালামের বাড়িতে ককটেল তৈরির কাজ চলছিল। কাজের জন্য বাইরে থেকে কারিগর আনা হয়েছিল কালামের ভাই দুলাল (৪০)-এর মাধ্যমে। দুলাল স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
স্থানীয়রা জানান, চরবাগডাঙ্গায় দলীয় রাজনীতির চেয়ে গ্রুপিং রাজনীতি বেশি প্রভাবশালী। দুই বড় গ্রুপে বিভক্ত এলাকার রাজনীতি; এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী, অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান শহীদ রানা টিপু। দুলাল টিপু চেয়ারম্যানের গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনের আগে দুলাল জামায়াত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে কাজ শুরু করেন। নির্বাচনের পর তিনি আধিপত্য বিস্তারের জন্য ককটেল তৈরি করছিলেন।
ভোর ৫টার দিকে ফাটাপাড়া গ্রামের কালামের বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাত দুইজন নিহত হন। আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন— রাণিহাটি ইউনিয়নের উপর ধুমিহায়াতপুর এলাকার মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন (২০) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (১৭)। আহতরা হলেন— চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামের মো. বজলুর রহমান (২০), মো. মিনহাজ (২২) এবং রাণিহাটি ইউনিয়নের উপরধুমি এলাকার মো. শুভ (২০)। আহত বজলুর ও মিনহাজ মূল ককটেল প্রস্তুতকারী দুলালের চাচা ও ভাতিজা।