
দুই দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সীমান্ত উত্তেজনার আবহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত সম্মেলন। হাইপ্রোফাইল এই বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করাসহ সব ধরনের জরুরি দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা নিয়ে ঢাকা জোরালো আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপচারিতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আসন্ন বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিশেষ করে পুশ-ইনের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী এই শীর্ষ বৈঠকটি একবার বাংলাদেশে এবং পরের বার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভারতের আয়োজনের পালা থাকায় বৈঠকটি দিল্লিতে বসছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো উপায়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে এ ধরনের জটিল সীমান্ত সংকটগুলো শুরুতেই দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সমাধান করা বাঞ্ছনীয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও স্পষ্ট করেন যে, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং দিল্লির এই বৈঠকেও এসব বিষয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বৈঠকটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর এটিই দুই দেশের সীমান্ত প্রধানদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে নতুনভাবে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার বর্তমানে ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতিতে অনথিভুক্ত তথাকথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই আগ্রাসী নীতিকে কেন্দ্র করে যখন দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল, ঠিক তখনই বিজিবি ও বিএসএফ প্রধানরা মুখোমুখি সংলাপে বসছেন। প্রকৃতপক্ষে এই বৈঠকটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের কারণে তখন তা স্থগিত করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই বৈঠকে সীমান্তপারের সংঘবদ্ধ অপরাধ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ‘দুষ্কৃতকারীদের’ মাধ্যমে বিএসএফ জওয়ান ও ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা, অসম্পূর্ণ সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শেষ করা এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সক্রিয় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিগুলো টেবিলে তুলতে পারে।
প্রসঙ্গগত, অভিন্ন ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল ও নদীসীমান্তের সার্বিক সুরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর দুই দফায় এই মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটি পালাক্রমে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হয়ে আসছে।