
বাঙালি আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘ইসরাইল ব্যতীত’ (Except Israel) লেখাটি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক এই ট্রাভেল ডকুমেন্ট থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ এই শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, দেশের আপামর জনমত এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সংহতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ফাইল ধরে সব পাসপোর্টে কার্যকর করছে বর্তমান সরকার
এর আগে, গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে আগের মতোই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে কারিগরি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সে সময় শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport) ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে এটি বড় পরিসরে বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার বর্তমান সরকার সব ধরনের সাধারণ ও বিশেষ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার কড়া উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাসপোর্টের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিগত এপ্রিল মাস এবং চলতি মে মাসের শুরুর দিকে একাধিক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বিষয়ে ইতোমধ্যে সবুজ সংকেত (গ্রিন সিগন্যাল) দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এই শব্দবন্ধ
২০২০ সালের আগে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রচলিত পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরাইল ছাড়া’। তৎকালীন পূর্ববর্তী সকল সরকারই এই নিয়ম বজায় রেখেছিল।
তবে ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ‘ই-পাসপোর্ট’ পরিষেবা চালু করা হয়। সেই সময় আন্তর্জাতিক এই ট্রাভেল ডকুমেন্ট আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার কথা বলে পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট থেকে এটি বাদ পড়ার পর থেকেই দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠন থেকে লেখাটি দ্রুত পুনর্বহালের জোরালো দাবি উঠে আসছিল।
সাধারণ পাসপোর্টধারীদের করণীয় ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে ধাপে ধাপে প্রিন্ট হওয়া সকল নতুন পাসপোর্টে এই শব্দবন্ধ যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে পুরোনো পাসপোর্ট ব্যবহারকারীদের জন্য আপাতত কোনো ধরনের আইনি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হবে না। নাগরিকদের বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, তারা যখন তা যথানিয়মে নবায়ন (রিনিউ) করতে দেবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই সংশোধিত নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।