
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন দেশের স্বনামধন্য চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা সাহিল রনি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে 'দেয়ালের দেশ' চলচ্চিত্রের জন্য 'সেরা সিনেমাটোগ্রাফার' বা শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার জয় করেছেন তিনি। শুধু পুরস্কার জয়ই নয়, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে তার চিত্রগ্রহণে নির্মিত আরও দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
মিশুক মনি পরিচালিত 'দেয়ালের দেশ' সিনেমায় অসাধারণ ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং এর জন্য এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সাহিল রনি। এই প্রাপ্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাহিল বলেন, "যেকোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জনের পেছনে পরিচালক মিশুক মনির অবদান অনেক, কারণ তিনি আমার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন।"
সেরা চিত্রগ্রাহক হিসেবে পুরস্কৃত হওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কের এই উৎসবেই গত ১ আগস্ট (২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় স্পেশাল স্ক্রিনিং হিসেবে প্রদর্শিত হয় সাহিল রনির সিনেমাটোগ্রাফি করা আরেকটি চলচ্চিত্র 'শেকড়' (The Roots) যার পরিচালক প্রসূন রহমান। একই উৎসবে নিজের কাজ করা দুটি ভিন্ন প্রজেক্টের এমন উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একজন চিত্রগ্রাহকের জন্য বড় মাইলফলক।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি একই দিনে (১ আগস্ট) ডালাসেও ছিল সাহিল রনির কাজের সরব উপস্থিতি। 'নবম বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ডালাস'-এ দুপুর ১:৩০ মিনিটে অ্যাঞ্জেলিকা ফিল্ম সেন্টারে প্রদর্শিত হয়েছে তার চিত্রগ্রহণে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'অনাবৃত' (Unveiled)। সাইফুল ইসলাম মান্নুর গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত এই হৃদয়স্পর্শী সিনেমাটির চিত্রায়ণ দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।
অনাবৃত মুভিটা দেখে এ্যালি খান নামের একজন দর্শক বলেন, একটা দৃশ্য আমার নিঃশ্বাস আটকে দিয়েছিল—ছোট্ট মেয়েটা আর আর্ট টিচার ছাতার নিচে কথা বলছে, আর পেছনে বৃষ্টির মধ্যে বাচ্চারা নদীতে ঝাঁপিয়ে খেলছে। এই একটাই ফ্রেম কত কিছু বলে দিল! যে মেয়েটা কিছুদিন আগেও ওই বাচ্চাদেরই একজন ছিল, আজ সে তাদের থেকে আলাদা। ধর্ষণের মতো এক নির্মম ঘটনার কারণে সে অনিচ্ছায় এমন এক প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে ঢুকে গেছে, যেখানে তার থাকার কথা ছিল না। সামনের আর পেছনের গল্পের এই বৈপরীত্য আপনি যেভাবে এক ফ্রেমে ধরেছেন, সেটা সত্যিই অসাধারণ। এমন শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং খুব কমই দেখা যায়। একটা কথা আছে, "একটা ছবি হাজারটা কথা বলে।" সাহিল রনির অনেক ফ্রেম কোনো সংলাপ ছাড়াই সেই হাজারটা কথা বলে দিয়েছে। দর্শক শুধু দেখেনি, অনুভবও করেছে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সাহিল রনি বরাবরই স্টোরিটেলিংয়ে নতুনত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। ক্যারিয়ারে অসংখ্য ফিকশন, ডকুমেন্টারি এবং বিজ্ঞাপনের চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ওয়ান এন্টারটেইনমেন্টের (চ্যানেল ওয়ান) ব্রডকাস্ট অপারেশন্স-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) হিসেবে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও সাফল্য বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।