
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জামায়াতের কার্যালয়ে অস্ত্র মজুদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে এ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতের আমির মহোদয়ের নির্বাচনী জনসভা বানচালের উদ্দেশ্যেই বাউফল থানার ওসি ও ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের নেতৃত্বে রাতের অন্ধকারে আমাদের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। যদি ৯৯৯ নম্বরের ভিত্তিতে অভিযান করা হয়, তাহলে কেন ছাত্রদলের নেতা ও কর্মীরা সেখানে ছিলেন? তথ্যদাতার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে এই যুগেও ওসি ব্যর্থ হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ওসি সরাসরি একটি দলের পক্ষাবলম্বন করছেন। এই পরিস্থিতিতে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিষয়টি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। ওসির পক্ষপাতমূলক অভিযানের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।” সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, অভিযানে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী প্রচারণার সরঞ্জাম কিছু উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, “হটলাইন ৯৯৯ নম্বরের ফোনের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা কোনো পক্ষের হয়ে অভিযান চালানো হয়নি। ৯৯৯ নম্বরের ফোন কলের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি কিভাবে উপস্থিত ছিলেন, তা আমার জানা নেই। ভুল তথ্যদাতাকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, বাউফলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার সকালে উপজেলা সদরের পাবলিক মাঠে নির্বাচনী জনসভা করবেন। মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।