
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে। দলটির প্রধান কোচ স্তল সুলবাকেন মনে করেন, ব্রাজিলকে এখন আর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য বা বিশাল ফেভারিট বলা যায় না। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা সম্ভব বলেও বিশ্বাস তার।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে।
এবারের বিশ্বকাপে চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে নরওয়ে। ইতিহাসও তাদের পক্ষে। ব্রাজিলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চার দেখায় একবারও হারেনি ইউরোপের দলটি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তারা ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সুলবাকেন বলেন, “পরিস্থিতি দেখে নয়, আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে হবে। উপলক্ষ্যের চাপে পড়ে নয়, বরং আমাদের সহজাত ফুটবল খেলতে হবে।”
তিনি বলেন, ব্রাজিলের উইং আক্রমণ ঠেকাতে দলগত রক্ষণই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
“ফুল-ব্যাকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু তাদের নয়, উইংয়ের খেলোয়াড়দেরও রক্ষণে সাহায্য করতে হবে। আমরা চাই জোনাল ডিফেন্স ঠিক রেখে খেলতে, যাতে একজনের ভুল অন্যজন সামলে দিতে পারে।”
নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা আর্লিং হলান্ড। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। তাকে ঘিরেই আক্রমণভাগ সাজাচ্ছেন সুলবাকেন।
তিনি বলেন, “আমরা হলান্ডকে বল পৌঁছে দেওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছি। আমরা এমন দল নই, যারা শুধু ব্রাজিলের ভুলের অপেক্ষায় থাকবে। আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাই। তবে ৯০ কিংবা ১২০ মিনিটের ম্যাচে রক্ষণেও আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।”
ব্রাজিলকে নিয়ে নিজের মূল্যায়নে সুলবাকেন বলেন, “আমি মনে করি না তারা এখন আগের মতো বিশাল ফেভারিট। কয়েক বছর আগে যেমন ছিল, এখন আর তেমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরেই আমরাও ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, বল দখলে রেখে খেলার সামর্থ্য আছে। সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ে কোচ বলেন, “শতকরা কতটা সম্ভাবনা আছে, তা বলা কঠিন। ৬০-৪০ কিংবা ৭০-৩০—যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা যদি নিজেদের সেরা ছন্দে খেলতে পারি, তাহলে ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ থাকবে। আর যদি সেরা খেলাটা খেলতে না পারি, তাহলে কোনো সুযোগই থাকবে না।”
নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে।