
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির আগেই যুক্তরাজ্য বৃহত্তর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না—এমন অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য নিজেদের নিরাপত্তা এবং মিত্রদের সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নেবে, তবে “আমরা বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াব না”।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌপথ নিরাপদ রাখতে জাহাজ ও মাইন-সন্ধানী ড্রোন পাঠানোর সম্ভাবনা সরকার বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় অংশীদার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্টারমার বলেন, ‘এটি এখনো আলোচনা পর্যায়ে আছে। সমুদ্রপথে চলাচল কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেটি একটি কঠিন প্রশ্ন।’
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ালে সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে সামরিক জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত বেশ সতর্ক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি ও গ্রিস ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে তারা এই যুদ্ধে অংশ নেবে না। জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং জার্মানি এতে জড়াবে না। এমনকি সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি চালু রাখার উদ্যোগেও তারা অংশ নেবে না।
গ্রিসও একই অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।