
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে কিংবদন্তি পপতারকা মাইকেল জ্যাকসন–এর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। এই সিনেমায় তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন, যার অভিনয়ে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, পোশাক ও নৃত্যভঙ্গিমায় যেন নতুন করে ফিরে এসেছেন পপসম্রাট।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের দর্শকরাও স্টার সিনেপ্লেক্স–এ সিনেমাটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তুলে ধরা হয়েছে শিল্পীর শৈশব, বেড়ে ওঠা, সংগীতজগতে প্রবেশ এবং কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করার গল্প।

এই বায়োপিকের মাধ্যমে মৃত্যুর ১৬ বছর পর আবারও বড় পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠলেন গায়ক, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, অভিনেতা ও সমাজসেবক মাইকেল জ্যাকসন। ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে এক আফ্রিকান-আমেরিকান পরিবারে জন্ম তার। ১০ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম ছিলেন তিনি। সংগীতপ্রেমী পরিবেশে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার সংগীতে আগ্রহ তৈরি হয়।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ভাইদের নিয়ে গঠিত ‘দ্য জ্যাকসন ৫’ ব্যান্ডে লিড ভোকালিস্ট হিসেবে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যান্ডটি ‘আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক’ ও ‘এবিসি’র মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে।
১৯৭১ সালে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন মাইকেল। তবে ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রিলার’ অ্যালবাম তাকে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত।
২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রোপোফল ও বেনজোডিয়াজেপাইন গ্রহণজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার জীবনকে ঘিরেই নির্মিত ‘মাইকেল’ সিনেমাটি নানা নাটকীয় মুহূর্তে ভরপুর।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকুয়া এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনবার অস্কার মনোনীত জন লোগান। লায়ন্সগেট প্রযোজিত এ সিনেমায় জাফার জ্যাকসনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নিয়া লং, লরা হ্যারিয়ার, জুলিয়ানো ক্রু ভালদি, মাইলস টেলার এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গোসহ আরও অনেকে।