
মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগে এক যুবককে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাহ্রির সময় রান্না করা ছাগলের মাংস চাইলে মাকে মারধরের অভিযোগে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের সালিসে গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে স্থানীয় বাজারে ঘোরানো হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) ঘটনাটি নোয়াখালীৎর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে ঘটেছে। সকালে ছাতারপাইয়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এই সালিস বসান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের বয়স ৩৬ বছর। শনিবার ভোররাতে সাহ্রির সময় তার বৃদ্ধ মা ছেলের ঘরে রান্না করা ছাগলের মাংস থেকে সামান্য অংশ খেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে তাকে মাংস না দিয়ে উল্টো মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাকে একের পর এক লাথিও মারেন।
নির্যাতনের পর ভোররাতেই ওই বৃদ্ধা কান্নাকাটি করতে করতে বিচার চেয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। পরে রোববার সকালে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত ছেলেকে ধরে এনে ইউনিয়ন পরিষদে সালিসের ব্যবস্থা করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে স্থানীয় বাজারে ঘোরানো হয়।
এই ঘটনার একটি দৃশ্যধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই দৃশ্যে চেয়ারম্যান আবদুর রহমানকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “এ রকম কোনো ব্যক্তি যদি মাকে ভাত না দেয়, মারধর করে তাহলে বিচার নিয়ে আমাদের কাছে আসবেন, কোনো জেলজুলুমের দরকার নাই। বিচার আমরা করব।”
পরে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বৃদ্ধ মা ছেলের ঘরে ছাগলের মাংস রান্না হয়েছে শুনে সাহ্রির সময় এক টুকরো মাংস চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে তা না দিয়ে তাকে মারধর করেন। তিনি বলেন, ভোররাতে ওই নারী কান্নাকাটি করতে করতে তার বাড়িতে এসে বিচার চান। এরপর তিনি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে ধরে এনে সালিসের ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, মাকে মারধরের অভিযোগে ছেলেকে ধরে এনে গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে বাজারে ঘোরানোর ঘটনা তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তিনি বলেন, গ্রাম্য সালিস করার অধিকার চেয়ারম্যানের থাকলেও এ ধরনের শাস্তির বিষয় আগে তিনি শোনেননি। তার ভাষায়, বিষয়টি “দৃষ্টিকটু”। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।