
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তাপ আবারও চরমে উঠেছে। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোর সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বলিউড অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হন—আর সেই প্রতিক্রিয়া ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে আলোচনা।
সম্প্রতি একটি জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারত যদি আগ্রাসন চালিয়ে যায়, তবে ছয়টি নদীর পানি রক্ষায় পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধ ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যুদ্ধ করে ৬টি নদীর অধিকার ফেরত নেওয়ার মতো শক্তিশালী। ভারত যদি এই পথে আগাতে থাকে, তাহলে আমাদের কাছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যুদ্ধসহ সব ধরনের বিকল্প খোলা থাকবে।”
এমনকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিলাওয়াল বলেন, “আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু যদি অপারেশন সিঁদুরের মতো হামলার কথা ভাবেন, তবে জেনে রাখুন—পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আর এই যুদ্ধে আপনারা অবশ্যই হারবেন। আমরা নতি স্বীকার করব না।”
এই বক্তব্যের ঠিক আগের দিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি, তাহলে পৃথিবীর অর্ধেককে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “সিন্ধু নদীর প্রবাহ রোধে ভারত যদি কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করে, তাহলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো অভাব নেই। ভারত যদি একটি বাঁধও তৈরি করে, আমরা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তা উড়িয়ে দেব। সিন্ধু নদী ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়।”
আসিম মুনির আরও দাবি করেন, ভারত যদি সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, তাহলে পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষ অনাহারে পড়বে।
এই প্রেক্ষাপটে, মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া রসিকতার মোড়কে হলেও স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই; কিন্তু এমন বক্তব্য সহ্য করা যাবে না। যদি এমন কথা বলা হয়, আমরা ধৈর্য হারাব। একের পর এক ব্রহ্মস মিসাইল ছোড়া হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে বাঁধ বানিয়ে ১৪০ কোটি মানুষ সেখানে প্রস্রাব করবে, পরে বাঁধ খুলে দিলে সুনামি চলে আসবে। এতে তারা সুনামিতে ভেসে যাবে।”
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, বিলাওয়ালের যুদ্ধোত্তেজক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মিঠুন চক্রবর্তী এই মন্তব্য করেন।