
মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে দারুণ ফিল্ডিং মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা সফরকারীরা ৪৫.৩ ওভারে অলআউট হয়। নাহিদ রানা ৫ উইকেট নিয়ে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন, আর মাঠে সতীর্থদের নিখুঁত ক্যাচ ও ফিল্ডিং ইনিংসটিকে আরও কঠিন করে তোলে।
শুরুর দিকেই চেপে ধরা বোলিংয়ে রান তোলার পথ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড, যেখানে ২৮ বল পর্যন্ত আসে কেবল ৪ রান। এই চাপে প্রথম বলেই হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে শুরুটা এনে দেন নাহিদ। পরে একই ধারায় উইল ইয়াংকেও ফেরান তিনি।
মাঝে নিক কেলি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ধৈর্য নিয়ে ১০২ বলে ৮৩ রান করে ইনিংসের হাল ধরেছিলেন তিনি। তবে ৩৬.৩ ওভারে শরীফুল ইসলামের স্লোয়ারে ক্যাচ তুলে দিলে সেই ভরসাটাও ভেঙে যায়।
এরপর থেকেই বাংলাদেশের ফিল্ডিং যেন আলাদা করে চোখে পড়ে। উইকেটের পেছনে লিটন দাস দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে কঠিন ক্যাচ নেন, যা ইনিংসের গতি থামিয়ে দেয়। মিড উইকেট বাউন্ডারিতে বদলি ফিল্ডারের ঠাণ্ডা মাথার ক্যাচ আর ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের নিরাপদ গ্রিপ, সব মিলিয়ে প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। মাঠে যেন কোনো ফাঁকই রাখেনি বাংলাদেশ।
এই ফিল্ডিং সমর্থন পেয়ে আরও ধারালো হয়ে ওঠেন বোলাররা। রিশাদ হোসেন দ্রুত উইকেট তুলে চাপ বাড়ান, আর নাহিদ রানা বারবার ওভারের প্রথম বলেই আঘাত করে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। শেষদিকে জেডেন লেনক্সকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
একসময় ১০০ পেরিয়ে ইনিংস বড় করার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর তীক্ষ্ণ ফিল্ডিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের আগেই থামে তাদের ইনিংস, ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি তুলে দেয় বাংলাদেশের হাতে।