
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে মান্নান খান, তার চাচা হারুন খান ও তাদের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিবাদ চরমে পৌঁছায়। দুপুরে কাদিরের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মিজানুর রহমানকে মারধর করা হয়। বিষয়টি পরিবারের কাছে জানানো হলে রাতের নামাজের পর মান্নান খান, হারুন খান ও আমিন খানসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিজানুরের বাড়িতে হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে নারী, শিশু ও পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। র্যাব ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানকালে একটি বিদেশি পিস্তল, একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ, ৬১ রাউন্ড গুলি, ৯টি খোসা ও ১টি ওয়াকিটকিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—মান্নান খান (৬৫), হারুন খান (৮০) ও মহসিন খান (২৯)।
প্রাথমিকভাবে আহতদের স্থানীয় শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শংকর কুমার পাল জানিয়েছেন, রাত ১২টার পর ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যাদের ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনায় ভুক্তভোগী বন্যা আক্তার সোমবার সকালে শ্রীনগর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। থানার ওসি মো. জুয়েল মিঞা জানিয়েছেন, “মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”