
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক আকস্মিক ও বিরল বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দাবি করেছেন, জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়েছেন, এপস্টিনের যৌন পাচার কাণ্ডের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দিতে। এই হঠাৎ বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কোনোভাবেই জানতেন না এবং কখনোই তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এপস্টিনের ভিকটিম নন এবং কোনো পর্যায়েই তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যেসব সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এসব মিথ্যা কথা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও জানান, এপস্টিনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল সীমিত এবং তিনি কেবল একবার তাদের সামাজিক পরিসরে সংক্ষিপ্তভাবে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ শোনা জরুরি এবং তাদের কংগ্রেসে শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, কেবল প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমেই সত্য পুরোপুরি সামনে আসতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রত্যেক ভুক্তভোগীর নিজের গল্প বলার অধিকার আছে, আর সেই সাক্ষ্যই সত্য উদঘাটনের পথ খুলে দিতে পারে।’
এই বক্তব্যকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিছু ভুক্তভোগী বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অনেকে এটিকে দায় এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ধরনের আহ্বান বাস্তব দায়বদ্ধতার বদলে চাপ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো। তাদের দাবি, এখনো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নথি পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি।
এর আগে এপস্টিন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও পুরোনো ছবি নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প ও তার স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ঘুরে বেড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে তিনি বারবার দাবি করেছেন, এসব সম্পর্ক বা পরিচয়ের ব্যাখ্যা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তিনি কখনোই এপস্টিনের অপকর্ম সম্পর্কে জানতেন না, এমনকি তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডেও কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি কোনো প্রশ্ন নেননি এবং দ্রুতই অনুষ্ঠান শেষ করেন। হঠাৎ এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, কেন এখনই এই ইস্যু সামনে আনা হলো। এদিকে ভুক্তভোগীরা এবং কিছু আইনপ্রণেতা কংগ্রেসে নতুন করে শুনানির দাবি জোরালো করেছেন, যা এপস্টিন ইস্যুকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে এনেছে।