
অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পথনকশা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম। তিনি জানিয়েছেন, এই সরকারের সামনে শুরু থেকেই তিনটি নির্দিষ্ট ম্যান্ডেট নির্ধারিত ছিল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি ম্যান্ডেট ছিল। এক. যারা অপরাধ করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার করা; দুই. সংস্কার করা এবং সেই সংস্কারের ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট এবং তিন. নির্বাচন দেওয়া।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং জেলা তথ্য কার্যালয়, সিলেটের ব্যবস্থাপনায় ‘গণভোট ও নির্বাচন ২০২৬’ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘নির্বাচন আমরা দিয়েছি। নির্বাচনের প্রার্থীরা আপনাদের কাছে আসবে। আপনারা তাদের প্রশ্ন করবেন, আপনাদের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে না কেন, সন্তানদের ভালো ব্যবস্থায় পড়াতে পারছেন না কেন, চিকিৎসা করতে পারছেন না কেন, পেটভরে খেতে পারছেন না কেন, কেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারছেন না। এই প্রশ্ন করার অধিকার যে অর্জন করেছেন, সেটার জন্য জুলাই আন্দোলনে নিহত মানুষেরা জীবন দিয়েছেন। এটিই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। এই ফসল আপনারাই ঘরে তুলবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার যার ভিন্নমত আছে, দল করেন, পছন্দমতো ভোট দেবেন—এ ব্যাপারে আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। তবে রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীদের দায়বদ্ধ করতে যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, সেই জুলাই সনদে আপনারা “হ্যাঁ” ভোট দেবেন। তাহলে রাষ্ট্র আপনার হবে। কেউ আর বছরের পর বছর মানুষ হত্যা করে, মানুষকে দমন করে, কথা বলতে না দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। এটা আপনার রাষ্ট্র—ভোট দিয়ে এর চাবি নিজের হাতে নিন।’
তিনি বলেন, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ও ভোটের মাধ্যমেই একটি দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে আর স্বৈরাচার কিংবা বৈষম্যের সুযোগ দেবে না।