
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে এবার সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বুথ বসিয়ে নারী-পুরুষকে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার, খুলে ফেলা ও পুনরায় সংযুক্ত করার প্রাথমিক কৌশল শেখানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, যেকোনো সময় আবারও হামলা শুরু হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সাধারণ মানুষকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তেহরানের হাফত-ই তির স্কয়ারে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেশনে বিপ্লবী গার্ডের সদস্য নাসের সাদেগি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কালো চাদর পরা নারী, তরুণ, এমনকি শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায়। কেউ কেউ খালি রাইফেল হাতে ছবি তুলছেন। পাশাপাশি সেখানে দেশপ্রেমমূলক গান, নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের স্মরণে বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্লোগান প্রচার করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে দুই পক্ষের আলোচনায় এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও এই সামরিক প্রস্তুতির প্রচার চালানো হচ্ছে। এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপককে সরাসরি স্টুডিওতে রাইফেল তাক করা ও গুলি চালানোর কৌশল শেখাতে দেখা গেছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তেহরানের বাসিন্দা মাহনাজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ত্র চালানো শেখা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে নারী, শিশু বা বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। তাই অন্তত অস্ত্র ব্যবহার শেখা নাগরিক দায়িত্বের অংশ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, কয়েকজন অংশগ্রহণকারী জানান, প্রয়োজনে দেশের প্রতিরক্ষায় মাঠে নামতেই তারা এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতি চললেও রাজধানীজুড়ে এখনো যুদ্ধের আশঙ্কা ও প্রতিশোধের আবহ স্পষ্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।