
ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননের ক্ষেত্রে তা মানছে না দখলদার ইসরায়েল। বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, নতুন দফার এই হামলায় কয়েক শ’ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার একটি বড় অংশ এমন সব এলাকায় চালানো হয়েছে যেগুলোকে সাধারণত হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ফলে বেসামরিক জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, “বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে হাসপাতালগুলোতে নিহত ও আহতদের ঢল নেমেছে। পরিস্থিতি নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে।”
লেবানন রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
এ হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এই বর্বর হামলা সব ধরনের মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাহ্য করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রতি তাদের চরম অবজ্ঞার আরেকটি উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “এই আগ্রাসন প্রমাণ করে ইসরায়েল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বা নৈতিকতার তোয়াক্কা করে না।”
এদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, “কোনো আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও তেহরান দাবি করেছে, লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।