
সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি শিগগিরই সরকার গঠন করবে, এবং আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ হবে।
নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের পদধারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি কাঠামো অনুযায়ী, দেশে সর্বোচ্চ বেতন পান রাষ্ট্রপতি, যার মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দায়িত্ব-সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ রাষ্ট্র বহন করে।
প্রধানমন্ত্রী মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া বাবদ মাসে ১ লাখ টাকা ভাতা পান (সরকারি বাসভবনে থাকলে এটি প্রযোজ্য নয়)। এছাড়া দৈনিক ৩ হাজার টাকা ভাতা, বিমান ভ্রমণের জন্য ২৫ লাখ টাকার বিমা কভারেজ এবং ১.৫ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল সুবিধা মিলছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মাসিক ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বেতন পান। প্রধান বিচারপতির বেতন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। মন্ত্রীরা মাসে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রীরা ৯২ হাজার টাকা বেতন পান। একই বেতন পান ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও বিরোধী দলীয় নেতা। উপমন্ত্রীরা মাসে ৮৬,৫০০ টাকা পান।
সংসদ সদস্যদের বেতন মাসিক ৫৫ হাজার টাকা। এর বাইরে তারা আপ্যায়ন, চিকিৎসা, পরিবহন, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ও টেলিফোনসহ অন্যান্য ভাতা পান। এছাড়া বিমা সুবিধাও রয়েছে।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পান। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বা দপ্তর থেকে জিপ গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। দৈনিক জ্বালানি বাবদ ১৮ লিটার তেলের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। দেশের ভেতরে সফরের সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দৈনিক ২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রীরা ১,৫০০ টাকা ভাতা পান।
আইন অনুযায়ী, মন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কাঠামোর বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব নিয়োগ করতে পারেন। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক সুবিধা পান।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পান। পাশাপাশি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি করে মোবাইল ফোন সুবিধা ভোগ করতে পারেন।